দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশে ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬ বছর ৯ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৯৬৩ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবে প্রাণ গেছে ২ হাজার ৯৫৮ শিশুর, যা মোট নিহতের ৩৭ দশমিক ১৪ শতাংশ।
এছাড়া পথচারী হিসেবে নিহত হয়েছে ২ হাজার ৮১২ শিশু এবং বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী হিসেবে ২ হাজার ১৯৩ শিশু।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রকাশিত প্রতিবেদনটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মারা গেছে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী। এই বয়সসীমায় নিহত হয়েছে ৩ হাজার ৫৪৭ শিশু, যা মোট মৃত্যুর ৪৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ। ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ২ হাজার ৮৮৪ শিশু এবং শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী ১ হাজার ৫৩২ শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
গ্রামীণ সড়কে বেশি শিশু নিহত: সড়কের ধরন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি শিশু নিহত হয়েছে গ্রামীণ সড়কে। এ ধরনের সড়কে প্রাণ গেছে ২ হাজার ৭১৩ শিশুর, যা মোট মৃত্যুর ৩৪ দশমিক ০৭ শতাংশ। আঞ্চলিক সড়কে ২ হাজার ৮২ শিশুর, মহাসড়কে ১ হাজার ৯৭৪ শিশুর এবং শহরের সড়কে ১ হাজার ১৯৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
কুমিল্লায় ট্যাবলেট মাদক সেবনে অচেতন কিশোর, তিন ভিডিও ভাইরাল: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রামীণ সড়কগুলো সাধারণত বসতবাড়ির পাশ দিয়ে গেছে। এসব সড়কে যানবাহন চলাচলে নিয়মরীতির যথাযথ অনুসরণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি না থাকায় শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে। পাশাপাশি সড়ক ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে শিশুদের অজ্ঞতাও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
পথচারী শিশুদের বড় ঝুঁকি থ্রি-হুইলার: পথচারী হিসেবে নিহত ২ হাজার ৮১২ শিশুর মধ্যে ১ হাজার ২৭১ জন থ্রি-হুইলারের ধাক্কায় বা চাপায় প্রাণ হারিয়েছে। এ সংখ্যা পথচারী হিসেবে নিহত শিশুদের ৪৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পিকআপের মতো ভারী যানবাহনের ধাক্কা বা চাপায় মারা গেছে ১ হাজার ১২ছে শিশু। প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের ধাক্কায় নিহত হয়েছে ৩১৭ শিশু। বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মারা গেছে আরও ৯৮ শিশু।
বিকেলে দুর্ঘটনা বেশি: সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিকেলে শিশু নিহত হওয়ার ঘটনা সবচেয়ে বেশি। এ সময়ে ২ হাজার ৬৩৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা মোট মৃত্যুর ৩৩ দশমিক ০৭ শতাংশ। সকালে নিহত হয়েছে ২ হাজার ১৬৮ শিশু এবং দুপুরে ১ হাজার ৮১৩ শিশু। এ ছাড়া রাতে ৫৯৮, সন্ধ্যায় ৫৪৬ এবং ভোরে ২০৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার পথে নিহত হয়েছে ২ হাজার ৫১৩ শিশু, যা মোট মৃত্যুর ৩১ দশমিক ৫৫ শতাংশ। বসতবাড়ির আশপাশের সড়কে খেলতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে ৯৬২ শিশু।
শিশুদের নিরাপত্তায় ৬ দফা সুপারিশ: সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু মৃত্যুর জন্য সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থা শিশুবান্ধব না হওয়া, নিরাপদে সড়ক ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতার অভাব, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের যানবাহন চালানোকে দায়ী করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
৩ লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করল ট্রাম্প প্রশাসন: এ ছাড়া দুর্ঘটনায় আহত শিশুদের উপযুক্ত চিকিৎসার সংকট এবং চিকিৎসা ব্যয় বহনে পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতাকেও মৃত্যুর হার বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থা শিশুবান্ধব করা, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করা, অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসাসেবা বাড়ানো, আহতদের চিকিৎসায় বিশেষ সরকারি তহবিল গঠন এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুদের মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। প্রতিটি শিশুর মধ্যেই সম্ভাবনা রয়েছে। অথচ সড়ক ব্যবস্থাপনার অব্যবস্থাপনা ও সচেতনতার অভাবে নীরবে প্রাণ হারাচ্ছে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
কে